
ভোরের আলো হৃদয়টারে দেয় যে খুশির জোর দোলা
মুয়াজ্জিনের আযান শুনে
লাভ কি বৃথা সময় গুণে
তড়বড়িয়ে জাগলে পরেই হবে ঘুমের ঘোর-ভোলা
শিশির ধোয়া হিমেল হাওয়া হৃদয়টারে পাক করে
কিচির-মিচির পাখির গানে
কত-ই সুধা জোগায় প্রাণে
সদ্য-ফোটা গোলাপ-কলি মনটারে মৌ-চাক করে
বেতস বনে পাখ্ ফুলিয়ে দোয়েল-সোনা শিষ তুলে
সঙ্গ দেবে আমার সাথে
রঙ্গ কত ভোর বেলাতে
শিখবো কত খোদার গড়া এই মায়াবী ইশকুলে
ব্যাপারটা ঠিক সায়েন্টিফিক না হলেও বেশ মজা পেয়েছিলাম
'আল্লাহ্' ইংরেজী বানান ALLAH
এবার লক্ষ্য করুন,
ইংরেজী বর্ণমালার অবস্থান অনুযায়ী যদি A=1, B=2.....ধরা হয়, তাহলে
A+L+L+A+H=1+12+12+1+8=34
আবার
O+N+E=15+14+5=34
তাহলে কি দাঁড়ালো....
ALLAH=ONE !!!
hey ! not it interesting ....

লুটায়ে পড়িছে মহাবিশ্ব
ধরনীটা নিঃস্প্রান-নিঃস্ব
নদী তীরে তীরে
পাখি ধীরে ধীরে
আসে ফিরে নীড়ে
শান্তির ঢেউ ভাসে আকাশে
দাবদাহ ক্ষান্ত
ধরনীটা শান্ত
আকাশ-সীমান্ত
মনে হয় জান্নাতী শাখা-সে
নদী-তট ধরে দূরে তাকালে
গরু নিয়ে ঘরে ফেরে রাখালে
মাঝি দাঁড় টানে
ভাটিয়ালী গানে
কল-কল তানে
হৃদয়ের পাখি মেলে পুচ্ছ
ধুষরিত দূরে
আযানের সুরে
বালুচর জুড়ে
নেচে ওঠে কাশফুল গুচ্ছ
একটানা বয়ে চলে তিস্তা
খুশিতে খোদারে করি সিজদা
উঠে বসি ধীরে
প্রিয় ধরনীরে
দেখি ফিরে ফিরে
মনেতে থাকেনা কোন ভ্রান্তি
বুকে হাত ধরি
লা-শরীকে স্মরি
আহা মরি মরি
চারিধারে কী-মধুর শান্তি
সিঙ্গাপুর।
বিমান থেকে নামলাম। বিমানের খাবার পছন্দ হয়নি। তাই খাইনি। খিদায় খারাপ অবস্থা !
এয়ারপোর্ট থেকে নেমেই দেখি বিরিয়ানীর দোকান। দারুন ঘ্রান বাতাসে। ভাবলাম যত ডলার খরচ হোক, আগে খেয়ে নিই, দাম জিজ্ঞেস করবোনা। লাইনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
গিভ মি ওয়ান প্লেট , বলতেই আমার দিকে তাকালো দোকানী। প্রথমেই ওর চোখ গেলো আমার মাথার দিকে । হেঁড়ে গলায় জিজ্ঞেস করলো " আর ইউ আ মুজলিম ?"
আমি বললাম, ইয়াস ! আই আম আ মুজ(!)লিম !
লোকটি ভ্রু কুচকে বললো, "দিস ফুড ইজ নট হালাল ফর ইউ"
আমি ভাবলাম , খাইছে ! যদি মাথায় টুপিটা না থাকতো, আর খাওয়া-দাওয়া শেষে বলতাম, বিরানি বড় স্বাদের হইছে ব্রাদার,মাংশটা কিসের ছিলো ?
(ঘটনা বাসতব - শুধু "আমি"টা আমি নই)
বিরাট বাড়ি । বিশাল উঠোন । সামনে পিছনে ডানে বামে অসংখ্য গাছের সমাহারে গড়ে উঠেছে চমৎকার বাগান । আম-জাম-কাঠাল-বড়ই-আতা-চালতা-পেয়ারা-ডালিম-সহ অসংখ্য ফলের গাছ, রয়েছে রেইন্ট্রি-মেহগনি-চাম্বল গাছেদের প্রায় প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রহ । কোন কোন গাছেদের নামে ভয়ধরানো কথাবার্তা চালু আছে । গ্রামের বাচ্চারা তাকাতে সাহস পায়না ...
এতবড় বাড়িতে ঘর একটাই । টিনের চালা ।
এটা স্বরুপকাঠি গ্রামে মমিনউদ্দিনের বাড়ি । ৫ ছেলে ২ মেয়ে মমিনউদ্দিনের সংসারে ।
পাশের বাড়ির তোফাজ্জল রাজাকার দলে নাম লিখিয়েছে ! হতাশ হয়েছে আব্দুর রহিম । ছোটবোনের সামনেই সশব্দে প্রার্থনা করেছিলো, আল্লা অগো বাড়ির সবকয়ডা মিলেটারীর গুল্লিতে যেন মরে । অবাক বেনুকে বলেছে কারন , অইবাড়ির পুবের বাগানে বড়ই গাছে এই বড়বড় বড়ই পাকছে । মুই একলা খাইতে পারতাম তাইলে...
বেনুর চাইতেও ১ বছরের ছোট আব্দুর রহিম ।
এক সন্ধ্যায় গানবোট ভেসে যায় সুগন্ধ্যা নদী থেকে । মাইকে তোফা রাজাকারের চিৎকার শোনা যায় । গ্রামবাসীকে হুশিয়ারী দিয়ে যাচ্ছে বাংলায় । রাতের একটু গভীরে শিউরে উঠে স্বরুপকাঠি গ্রামের বাসিন্দারা । কানফাটানো গর্জন শোনা যায় উত্তরের দিক থেকে । বিমান বন্দর ওদিকে । মিলিটারী ক্যাম্প করেছে যেখানে । গোয়ালের গাভীগুলো ভয়ে ডাকাডাকি করতে থাকে , দরজা খুলে ঘরের দক্ষিনে চলে যায় বাড়ির বাসিন্দারা । বুকসমান উচু মাটির ভিত্তির আড়ালে বসে দোয়া-ইউনুস পড়তে থাকে , কেউ মনে মনে , কেউবা শব্দ করে । দুজন কামলার সাথে মমিনউদ্দিন নিজে চলে যান গোয়ালে । ৫ টা গরু হাকিয়ে নিয়ে আসেন এপাশটায় । ৬-৭ টা ছাগল ও স্থান পায় ঘরের আড়ালে ।
তেমন কিছু ঘটেনা রাত্রিবেলা । জীবনের কিছু ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা হয় মাত্র । সামান্য অনিশ্চয়তা কেটে যায় ভোরের সূর্য উঠলে । ৫ ভাই বাবার সাথে চলে যায় মাঠে । বেনুকে মা পাঠান নদীর ধারে শাক তুলতে ।
আচামকা দুম শব্দে কলিজা উড়ে যায় বেনুর । পায়ের কিছুটা দুরে ঘুরছে একটা কি যেন । দুরে .. নদীতে দেখা যায় মিলিটারী গানবোট । অতদুর থেকেই মেশিনগানের টার্গেট করেছে শাক তোলারত নিরীহ কিশোরীকে । উদ্র্দ্ধশ্সাসে বাড়িমুখে দৌড় দেয় মেয়েটা । বাড়ির মধ্যে ঢুকে কাপতে থাকে থরথর করে । দাদা দাদা.. বলে আবার ছুটে যায় মাঠে । বাবা-ভাইদের কাছে সংবাদটা পৌছে দেয় ।
থুরথুরে বুড়া সেকান্দার রাস্তার পাশে বসে হুক্কা টানছিলো । বয়রাটা খেয়াল করতে পারেনি । পিছনে ধুম লাথি খেয়ে ছিটকে পড়ে ডোবার মধ্যে । হতবাক আতঙ্কে কোনমতে ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখে ১০-১৫ জনের একটা পাকি দল গটমট হেটে চলে যাচ্ছে ।
বিরাট জামগাছটার মগডালে বসে ছিলো আব্দুর রহিম । আতঙ্কিত হয়ে লক্ষ্য করলো বাবা রাস্তার দিকে যাচ্ছেন । মিলিটারীরা থামালো তাকে । ফ্যাকাসে মমিনউদ্দিনের সাথে কি যেন কথাবার্তা হলো... আঙুল তুলে এদিক ওদিক কিছু দেখিয়ে দিয়ে পিছনে ফিরে বাড়ির মধ্যে আসতে শুরু করলো । দু তিন কদম হেটে ভয়ে আতংকে ঝেড়ে দৌড় দিলো মমিনউদ্দিন ।
বিকেলে বাজার থেকে ফিরে সবার বড় শামসুদ্দিন জানালো বাজারের দুলাল সাহা আর অজয় পোদ্দারকে মেরে ফেলেছে । নদীর বাধানো ঘাটের ওপরটা রক্তে ভেসে গেছে ... যুদ্ধের প্রথম মৃত্যুসংবাদ ।
২ মেয়েকে নানাবাড়িতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয । অন্যরা বাড়িতেই থাকবে । কোন কার্যকর সিদ্ধান্ত নয় .. সবাই ই বুঝতে পারে ..পুরো দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হয়ে গেছে । বিভীষিকামুক্ত একটা নিরাপদ কোন কোথায় ? আব্দুর রহিমের চেচামেচিতে সেও সফরসঙ্গী হয় বোনেদের । বুয়া মুইও যামু, বলে বড়বোন শানুর আচল চেপে ধরে আর ছাড়েনি ।
সুগন্ধ্যা পাড়ি দিয়ে একটা পরিবার দু টুকরা হয়ে গেলো সেদিন রাতেই ।
ভুল ছিলো, যে ভুল আর কোনোদিন শুধরে নেয়া যায় না । বেনু-শানুদের মামার গ্রামটাতেই আগে আগুন ছড়ালো ব্যাপকভাবে । যুদ্ধের আগুন-প্রতিশোধের আগুন-বিক্ষোভের আগুন-কাপুরুষদের জ্বালানো আগুন ।
আগুনে পুড়লো , যারা পুড়তে চেয়েছিলো...
আগুনে পুড়লো যারা পুড়তে চায়নি, তারাও...
মিলিটারীরা তিন মামাকে ঝাজরা করে দিলো । রাজাকারেরা লুটে নিলো বাড়িতে সম্পদ বলতে যা ছিলো...
বেতবনের পেছনের শুকনো ডোবায় লুকিয়ে বেনু বেচে গেলো । আগুনের আভায় শেষবারের মত দেখেছিলো আব্দুর রহিম আর শানু পেছনের বাগান দিয়ে নদীর ঘাটের দিকে দৌড়াচ্ছে । দুজনের আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি..কখনও...
মধ্যবয়সটা কত ? ১০+৩৭=৪৭- নাহ এটা তো বুড়ো প্রায় ...
যাই হোক না কেন ... বড়বাড়ির যে দোতলা ঘরটা থেকে মাঝে মধ্যেই ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার সুর ভেসে যায় বাতাসে ... ওটা বেনুর ঘর..