22 July 2008

একটা উমর এই যামানায় চাই হে মেহেরবান

আমার মা একটা লাল রঙের কাপড় দিয়ে প্যাকেটের মত বানিয়েছেন । নাম নাকি গেলাফ । মা কোরান পড়া শেষ করে গেলাফের ভেতরে সাঁজিয়ে রাখেন । তারপর আলতো একটা চুমু খেয়ে রেখে দেন যত্ন করে।

সেদিন হাত ফসকে গেলাফটা নিচে পড়ে গেলো । চমকে উঠে মা ওটা তুলে নিলেন। বুকে কপালে ছুঁইয়ে পরম সম্মানের সাথে রাখলেন যথাস্থানে...

আমি ভাবি...

সূতোর বুননে বানানো গেলাফ , কোরানকে ধারন কর বলে তোমার কত সম্মান ! তোমার সামান্য অনাদরে অন্তর শিউরে ওঠে । গায়ে সামান্য ধূলো জমলে ব্যাথা লাগে বুকের গভীরে !

আর...

কোরানের জীবন্ত ধারক হিসেবে যে মুসলমান জাতিকে আল্লাহ নির্বাচিত করলেন ,মনোনীত করলেন, সম্মানিত করলেন... তারা আজ কেমন লাঞ্চনার সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে । প্রত্যেকটা ইবলিশের হাত আজ প্রতিনিয়ত নিশপিশ করে এই জাতির গালে চপেটাঘাত করতে ! সারা দুনিয়া জুড়ে কি চরম অপমানিত জীবন যাপন...

ভাইদের মৃত্যুতে শকুনদের উল্লাস- নির্যাতিতা বোনেদের হাহাকারে শয়তানদের অট্টহাসি আর অথর্ব রাষ্ট্রনেতৃত্বের ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব ।

পৃথিবীর সবকয়টা মুসলিম জনপদ আজ একেকটা রক্তাক্ত কাশ্মীর, একেকটা বিক্ষত ফিলিস্তীন...

ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের চটকদার বিজ্ঞাপণে বিভ্রান্ত বিবেক ! পরের স্টেপ, বিবেকের ঘরে পুরোপুরি সীলমোহর এঁকে নাস্তিকতার দীক্ষা লাভ । হায়রে দরিদ্র মুসলমানের সন্তানেরা মিশনারী এনজিওদের শিক্ষালয়ে তোমরা শিখছো প্রার্থণার খৃষ্টিও রীতি আর তোমাদের শাষকেরা ইসলাম শিক্ষার সিলেবাসে ১০০ মার্কের পরিবর্তে ৫০ মার্ক রাখার যুক্তি দেয় ! ধিক্কার , ধিক্কার এবং ধিক্কার...

কোরানের ধারকজাতি কোরানকে গেলাফে মুড়িয়ে তাকের ওপড় তুলে রাখে । তো সম্মান কে পাবে ?

কোরানের সাথে যে জড়িয়ে আছে, সে-ই তো সম্মানীত হবে, নাকি ?




-কোরান যে নবীর প্রতি নাজিল হল, তিনি সব নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
-কোরানের সাথে জড়িত বলে রমজান মাস বছরের সবথেকে সম্মানীত মাস
-কোরানের সাথে জড়িয়ে থেকে লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চাইতে শ্রেষ্ঠ সময়
-আর কোরানকে জড়িয়ে রাখে বলে কাপড়ে বানানো গেলাফের কী মর্যাদা আমার আম্মার কাছে !

হে আমার জাতির ভাইয়েরা, হে আমার জাতির বোনেরা ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই ! পড়ো সূরা মুদ্দাচ্ছির, ক্বুম-ফায়ানযীর-ওয়া রব্বাকা ফাকব্বির ... কম্বলাবৃত ঘুমন্তকে জেগে উঠতে বলা হচ্ছে, স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে !!


-কোরান আবু জেহেল কে রাষ্ট্রনায়ক বানানোর জন্য আসেনি !
-কোরান মদীনা রাষ্টে আক্রমনকারী আবু-জেহেল বাহিনীকে বদর যুদ্ধে বিজয়ী করার জন্য আসেনি !
-কোরান রোম-পারস্যের অত্যাচারী শাষকদেরকে নির্বিঘ্নে প্রভূত্ব চালাতে দেয়ার জন্য আসেনি !


* কোরান এসেছে নবী হত্যার উদ্দেশ্যে খোলা তরবারি হাতে বেরুনো উমর ইবনে খাত্তাব কে খলীফা হযরত উমর বানাতে , অর্ধপৃথিবীর যে প্রতাপশালী শাষণকর্তা ফোরাতের তীরে অনাহারী একটা কুকুরের মৃত্যুর জন্যও নিজেকে দায়ী মনে করে !

* কোরান এসেছে উমর ইবনে আব্দুল আজীজের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিতে

- চাটুকারদের শুভেচ্ছা শুনে জবাবে যিনি বলতে পারেন, তোমরা কাকে মুবারকবাদ দিতে এসেছো, সেই ব্যক্তিকে- যে ধ্বংসের মুখে নিক্ষিপ্ত হয়েছে ? সবচাইতে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে ?

- রাজ-কোষাগার থেকে প্রাপ্ত বিশেষ সুগন্ধি না নিয়ে যিনি বলেন, “খুশবু গ্রহণ করার মত আনন্দের দিন আমার শেষ হয়ে গেছে, ইসলামী শাষনের অন্তর্ভূক্ত সমগ্র এলাকায় যদি একটি প্রাণীও অনাহারে থাকে , কোন একজনের ওপরও যদি যুলুম হয় তাহলে সবার আগে আল্লাহ উমরকে পাকড়াও করবেন।”


হে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, কোরানের পাঠকদের মাঝ থেকে অন্তঃত একটা উমর আমাদের জন্য দাও !

টুপিওয়ালারা শুনুন, "তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারন কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা"

সিরিয়া সীমান্তের এক গ্রামে মাইন বিষ্ফোরণে দুটি পা উড়ে গেলো বালিকা জোহায়রার। কোনভাবে উত্তর নেপালের এক মুসলমান ব্যবসায়ী এখবর জানতে পেরে হৃদয়ে অনুভব করলেন তীব্র ব্যাথা । কিচ্ছু করার নেই ... হাজার মাইল দুর থেকে শুধুমাত্র কেপে কেপে উঠলেন তীব্র প্রতিশোধস্পৃহায় ।

আমাদের চেয়ে বেশি ঐক্যসূত্র আর কার আছে? হাজারো শিরা উপশিরার মত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থেকেও আমাদের পক্ষেই সম্ভব পাশাপাশি দুটি আংগুলের মত একই বিন্দুতে মিলে থাকা । কেবলমাত্র আমাদের পক্ষেই সম্ভব ফিলীস্তীনের শহীদ মুজাহিদটির জন্য ভারতবর্ষের কোন এক অজানা গন্ডগ্রামে বসে দুহাত তুলে চোখ ভাসানো আন্তরিক আকুতিতে ।

এ বিশ্ব আমাদের । আমরা এখানে অনাহুত নই । এ বিশ্ব এবং আমাদের প্রত্যেকের স্রষ্টা এক ও একমাত্র একজনই । আমাদের বিশ্বাস এবং আমাদের চুড়ান্ত গন্তব্যের এই সীমাহীন ঐক্য থাকার পরেও আমরা কেন নিজেদেরকে দুর্বল ভাবি । আমাদের কালেমা এক- আমাদের অনুসরনযোগ্য নেতাও মাত্র একজনই ।

আহা...
এতটা বোকামীও কেউ করতে পারে ! কতটা অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে গেলে কেউ পারে দিনের পর দিন একই শত্রুর থেকে আঘাত পেয়ে তাকে পাল্টা আঘাত করার দরজা বন্ধ করে দিয়ে, নিজের ভাইকে আঘাত করতে ! তুমি শিয়া-তুমি সুন্নী-তুমি অমুক-কত অদ্ভুত আমাদের বিভক্তির সীমারেখাগুলি !! আমরা কেন একবার ভাবিনা আমাদের সকলের সেই একমাত্র চুড়ান্ত উচ্চারণ-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ.....মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ...

এতটা অন্ধ হয়ে গেছি আমরা... যতটুকু বড় করা যায়, চোখকে ততটুকু প্রসারিত করে দেখছি , এক আল্লাহ জিন্দাবাদ এর অবিশ্বাসীরা আক্রমন শানানোর জন্য একবারও ভাবছে না কোনটা শিয়া , কোনটা সুন্নী ... কে ইরাকে থাকে আর কে বাংলাদেশের বাসিন্দা... যাদেরকেই ভাবছে কালেমায়ে শাহাদাতের অনুসারী না হোক কেবল উচ্চারনকারী ; ওদের অস্ত্রের নল তাদের দিকেই তাক হচ্ছে নির্দিধায় । উপলদ্ধিতে একটুও আলোড়ন তুলছে না আমাদের । আপসোস আমাদের জন্য ।


খন্দক যুদ্ধের অবস্থাটা ছিলো , সামনে পেছনে , ডানে বায়ে উপর নীচএ... ১০ দিক থেকে মুসলিম বাহিনীকে বিপদ ঘিরে ফেলেছিল । সে যুদ্ধে মাটির দেয়ালের প্রতিরোধ বিজয়ী করেছিল মুসলিম বাহিনীকে । আজ আক্রমনের মাত্রা এতটুকু বাড়েনি বা কমেনি । কেবল মাত্র ধরন পরিবর্তিত হয়ে গেছে । আজকেও অসংখ্য দিক দিয়ে এ জাতিকে আক্রমন করা হচ্ছে । আমরা আক্রান্ত হচ্ছি আমাদের সাংস্কৃতিক মুল্যবোধে, আমরা আক্রান্ত হচ্ছি আমাদের পারিবারিক বন্ধনব্যবস্থায় । আমাদের বিশ্বাসের ভিতকে নাড়িয়ে দিতে আক্রমন শানানো হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবীর প্রতি । মিডিয়ার দৈত্যের পায়ের চাপে আমাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে । ... আহা .. আমাদের আলেমরা বিতর্ক তুলছে আরামদায়ক আলস্যে... দাড়ির দৈর্ঘ্য কতটুকু হওয়া দরকার , তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত নাকি ৮ রাকায়াত... শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়া যায়েজ না নাজায়েজ...

আমরা নিজেদেরকে বিভক্ত করে ফেলছি.. ওরাও যতটা সম্ভব উষ্কানী দিচ্ছে সে বিভক্তির দাবানলে..কিন্তু বিশ্বাস করুন তাদের চোখে আমরা এতটুকু বিভক্ত নই । তাওহীদের অনুসারীরা ওদের চোখে ঠিকই একটামাত্র দেয়ালের ভিন্ন ভিন্ন ইট । ওদের উদ্দেশ্যে কোনরকম ভিন্নতা নেই কারো প্রতি । ভৌগোলিক সীমারেখা আমরা টেনে দেই..ওরা টানেনা...ইরাকী মুসলমান আর কাশ্মীরের মুসলমান যেমন একই ব্যবহার পায় বাঙালী মুসলমান তার থেকে ভিন্ন ব্যবহার পাবে, এটা কখনও সম্ভব নয় । সুন্নী মুসলমান তাদের ধ্বংসের টার্গেট-শিয়া মুসলমান সে টার্গেটের বাইরে নয় ....


ভেঙ্গে ফেলো সকল বিভেদ-দেয়ালগুলি
একত্র হও ,এক কাতারে, আজ সবে...
দেখবে; কোথায় পালিয়ে গেছে শেয়ালগুলি,
এই ধরনী আবার খোদার রাজ হবে...